Tourism

নেপালের দরবার স্কয়ার যেনো এক জীবন্ত জাদুঘর

নেপালের দরবার স্কয়ার যেনো এক জীবন্ত জাদুঘর

হিমালয়ের জন্য বিখ্যাত নেপাল। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের নেপাল ভ্রমণের পরিকল্পনা ছিল। গত ১৫ জানুয়ারি অবশেষে নেপালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম।
ওইদিন বিকাল ৩টায় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়ে উপস্থিত হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোর্ডিং পাস নিয়ে।
তারপর ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করি। আমাদের পূর্বে কয়েকটি দেশ ভ্রমণ থাকায় ইমিগ্রেশনে আমাদের তেমন ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।

তবে যারা ফ্রেশ পাসপোর্ট (পূর্বে কোনো দেশে ভ্রমণ করেনি) তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেকেই ইমিগ্রেশন অফিসারের বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।
অবশেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা থেকে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বিমান ছেড়ে যায়। দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের বিমান যাত্রা শেষে নেপালের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় বিমান অবতরণ করে। নেপালে পাহাড়ের বুকের ওপর বিমানবন্দর। যাকে বলা হয় ‘দ্য মোস্ট ডিফিকাল্ট এয়ারপোর্ট অব ওয়ার্ল্ড’। আমাদের বিমান চমৎকার একটা ঝাঁকুনি দিয়ে অবতরণ করে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে বাহিরে আসলাম।

বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে যাওয়ার প্রধান ফটকে আমাদের বুকিং করা হোটেলের নাম সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে একজন ট্যাক্সি চালক দাঁড়ানো দেখে আমরা বুঝতে পারলাম তিনি আমাদের নিতে এসেছেন। বিমানবন্দর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে কাঠমান্ডুতে আমাদের হোটেল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হোটেলে গিয়ে পৌঁছায়। যানজটের কারণে হোটেলে আসতে একটু দেরি হয়ে যায়। হোটেলে ফ্রেশ হয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে রাতের খাবার খেতে বের হয়ে গেলাম। বলে রাখা ভালো, নেপালে হালাল খাবার তেমনটা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশি, ইন্ডিয়ান কয়েকটি খাবার রেস্তোরাঁ আছে। তবে তাদের খাবারের গুণগত মান তেমনটা ভালো না। তারপরও বাধ্য হয়ে আপনাকে খেতে হবে।

তবে হিন্দু বা ইংরেজি ভাষায় নেপালি রেস্তেরাঁগুলোতে গিয়ে বুঝিয়ে বললে তারা ভালো মানের খাবার পরিবেশন করে। হোটেল থেকে কিছুক্ষণ হেঁটে কক্সবাজার রেস্তোরাঁয় গিয়ে ৩০০ রূপি দিয়ে সাদা ভাত, মুরগী, আলু ভর্তা ও ডাল দিয়ে খাবার খেলাম। এরপর রাতের কাঠমান্ডু দেখতে বের হলাম।

দরবার স্কয়ার

ইতিহাস প্রেমীরা ঘুরে দেখতে পারেন কাঠমান্ডুতে অবস্থিত দরবার স্কয়ার। আমরা সকাল ১১টায় দরবার স্কয়ার পৌঁছায়। যথারীতি ২৫০ রূপি দিয়ে টিকেট কেটে ভিতরে প্রবেশ করি। দরবার স্কয়ার ঘুরে মনে হলো, এ যেনো এক জীবন্ত জাদুঘর। তৎকালীন রাজাদের আমলে জনসাধারণের একত্রিত হওয়ার জন্য এই দরবার চত্বরকে ব্যবহার করা হতো। ঐতিহাসিক এই জায়গায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় বেড়েছে দোকান ও মার্কেট। হয়েছে আরও জমজমাট। দুপুর ২টায় আমরা গেলাম বৌদ্ধনাথ স্তুপ ঘুরতে।

বৌদ্ধনাথ স্তুপ

কাঠমান্ডু শহরের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে আছে দেখার মতো অনেক মন্দির। এর মধ্যে বৌধনাথ স্তুপ, স্বয়ম্ভূনাথ মন্দির, পশুপতিনাথ মন্দির ও নমো বৌদ্ধ মন্দির উল্লেখযোগ্য। বোধনাথ বা বৌদ্ধনাথ মঠ হল তিব্বতের বাহিরে অবস্থিত, বৃহত্তম তিব্বতি বৌদ্ধ মঠগুলির মধ্যে একটি। এটি কাঠমান্ডু থেকে ৭কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। স্থানীয় ও বিদেশি তীর্থযাত্রী উভয়ই (বিশেষ করে তিব্বত থেকে) এই আধ্যাত্মিক স্থানটি পরিদর্শন করতে আসে। আমরা ঘুরে ঘুরে মন্দিরের চারপাশ দেখলাম। মন্দির থেকে পুরো কাঠমান্ডু শহর দেখা যায়।

এটি নেপালের ঐতিহাসিক গুরুত্বের শীর্ষস্থানগুলোর মধ্যে একটি, পঞ্চম শতাব্দীতে রাজা মন দেব দ্বারা নির্মিত। এই বিশাল মঠটি একটি অষ্টভুজাকার কাঠামোর উপরে নির্মিত, যা বুদ্ধের শিক্ষার প্রতীক। এটি বেশ কয়েকটি গোম্পা বা ছোট মন্দির দ্বারা বেষ্টিত। যত তাড়াতাড়ি আপনি কমপ্লেক্সে প্রবেশ করবেন, ধূপের সুবাস আপনাকে আলিঙ্গন করবে ও আপনি প্রার্থনার চাকার চিৎকার শুনতে পাবেন, যখন সন্ন্যাসীরা স্তুপের ভিত্তির চারপাশে ঘুরে বেড়ান। কাঠমান্ডু শহর ঘুরে আমরা দুপুরের খাবার খেয়ে হোটেলে গিয়ে বিশ্রাম নেয়। এর মধ্যে ২-৩ ঘণ্টা ঘুমিয়ে পড়ি।