Tourism

হিমাগারেও সিন্ডিকেট, জমিতে আলুর কেজি ৯ টাকা, বাজারে ২০ টাকা

হিমাগারেও সিন্ডিকেট, জমিতে আলুর কেজি ৯ টাকা, বাজারে ২০ টাকা

সংরক্ষণ সংকট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আর মূল্য হ্রাসে চরম বিপাকে পড়েছেন রাজশাহী অঞ্চলের আলু চাষিরা। অতিরিক্ত আলুর ফলনই এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কৃষকরা বলছে, রাজশাহীতে আলুর দামে ব্যাপক ধস নেমেছে। গত ৩ দিনে মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু থেকে টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের মতে, গত ৩০ বছরে তারা এমন দরপতন দেখেননি। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, অনেক কৃষক আলু নিয়ে রীতিমতো দিশাহারা হয়ে পড়েছে। সংরক্ষণ অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ, হিমাগার মালিক মজুতদারদের কারসাজিতে আলুর দরপতন ঘটেছে। এবার জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও, ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকেই আলু বিক্রি করে জমির ইজারা খরচও তুলতে পারছেন না।

জেলার তানোর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের চাষি একজন চাষি জানান, প্রথমদিকে আলুর কেজি ছিল ১২ থেকে ১৩ টাকা, যা এখন থেকে টাকায় নেমে এসেছে। এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করে তিনি ২৪-২৫ হাজার টাকা পাচ্ছেন, অথচ ইজারা, শ্রমিক, সার, সেচসহ খরচ হয়েছে ৬২ হাজার টাকা। এতে প্রতি বিঘায় তার ৩৮ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

আরেক উপজেলার একজন চাষির অভিযোগ, হিমাগারে অগ্রিম বুকিং থাকা সত্ত্বেও আলু রাখতে পারছেন না। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু ব্যক্তি জোর করে আলু সংরক্ষণের সুবিধা পাচ্ছেন, ফলে সাধারণ কৃষকরা আরও বিপদে পড়েছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি মৌসুমে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ১১ লাখ টন (কমবেশি) আলু উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু রাজশাহীর ৩৬টি হিমাগারের ধারণক্ষমতা মাত্র চার লাখ টন, যার ফলে লাখ টন আলু সংরক্ষণের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

তানোরের আড়াদিঘি গ্রামের একজন কৃষক জানান, তার ৪০ বিঘা জমিতে হাজার বস্তা আলু হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেক হিমাগারে নেওয়া হলেও বাকিটা রাখা যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি সিন্ডিকেট বুকিং ছাড়াই আলু সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছে এবং কৃষকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।